নাম পরিবর্তনের হলফনামা (Affidavit) তৈরির সঠিক নিয়ম ও নমুনা
আমাদের দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে নামের বানান ভুল থাকাটা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। কারো নামের সাথে “Md.” বাদ পড়েছে, কারো আবার “Hossain” এর জায়গায় “Hossein” হয়ে গেছে।
এই ছোট ভুলগুলো ভবিষ্যতে পাসপোর্ট করা, ভিসা প্রসেসিং বা জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় বড় আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এই ভুল সংশোধনের প্রথম আইনি ধাপ হলো একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নাম পরিবর্তনের হলফনামা বা এফিডেভিট (Affidavit) সম্পাদন করা।
আজকের ব্লগে আমরা জানব হলফনামা কী, কখন প্রয়োজন হয় এবং এটি লেখার সঠিক নিয়ম।

নাম পরিবর্তনের হলফনামা কখন প্রয়োজন?
১. সার্টিফিকেট সংশোধন: এসএসসি বা এইচএসসি সার্টিফিকেটে নিজের বা পিতা-মাতার নাম ভুল থাকলে শিক্ষা বোর্ডে আবেদনের জন্য হলফনামা বাধ্যতামূলক। ২. এনআইডি সংশোধন: জাতীয় পরিচয়পত্রে তথ্য সংশোধনের জন্য অনেক সময় নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে হলফনামা চাওয়া হয়। ৩. পাসপোর্ট: পাসপোর্টে নাম পরিবর্তন বা সংশোধনের জন্যও এফিডেভিট প্রয়োজন হয়।
নাম পরিবর্তনের হলফনামা তৈরির ধাপসমূহ
ধাপ ১: তথ্যের সত্যতা যাচাই হলফনামায় আপনি শপথ করে বলছেন যে আপনার দাবি সত্য। তাই এখানে কোনো মিথ্যা তথ্য দিলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
ধাপ ২: স্ট্যাম্প পেপার সাধারণত ২০০ বা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারে হলফনামা প্রিন্ট করতে হয় (সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টাকার অঙ্ক কম-বেশি হতে পারে)।
ধাপ ৩: নোটারি বা ম্যাজিস্ট্রেট স্ট্যাম্পে প্রিন্ট করার পর একজন আইনজীবীর মাধ্যমে নোটারি পাবলিক অথবা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বাক্ষর করতে হয়।
হলফনামার নমুনা (Name Change Affidavit Sample)
নিচে নাম সংশোধনের একটি সাধারণ নমুনা দেওয়া হলো:
হলফনামা
আমি, [আপনার বর্তমান ভুল নাম], পিতা: [পিতার নাম], মাতা: [মাতার নাম], সাকিন: [আপনার ঠিকানা], ধর্ম: [ধর্ম], জাতীয়তা: বাংলাদেশি, জাতীয় পরিচয়পত্র নং: [নম্বর], এই মর্মে শপথপূর্বক ঘোষণা করিতেছি যে:
১. আমি বাংলাদেশের একজন স্থায়ী নাগরিক এবং অত্র হলফনামা সম্পাদনের যোগ্য।
২. আমার এসএসসি ও এইচএসসি সার্টিফিকেটে আমার নাম ভুলবশত “[ভুল নাম]” লিপিবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু আমার প্রকৃত এবং শুদ্ধ নাম হলো “[সঠিক নাম]”।
৩. আজ হতে আমি সর্বক্ষেত্রে আমার সঠিক নাম “[সঠিক নাম]” ব্যবহার করিব এবং অন্যরাও আমাকে এই নামেই চিনিবেন ও ডাকিবেন।
৪. আমার এই হলফনামায় প্রদত্ত সকল তথ্য সত্য। যদি কোনো তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে আমি আইনের কাছে দায়ী থাকিব।
স্বাক্ষর: _____________ (হলফকারী)
তারিখ: [আজকের তারিখ]
lekhbo.com দিয়ে তৈরি করুন লিগ্যাল ড্রাফট
আইনজীবীর চেম্বারে গিয়ে ভিড় ঠেলে ড্রাফট তৈরি করা অনেকের জন্য ঝামেলার। lekhbo.com ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই এই হলফনামার প্রাথমিক ড্রাফটটি তৈরি করে নিতে পারেন।
আমাদের ‘Legal Documents’ সেকশনে গিয়ে ‘Name Change Affidavit’ অপশনটি বেছে নিন। আপনার ভুল নাম এবং সঠিক নাম ইনপুট দিলেই এআই আপনার জন্য একটি নির্ভুল আইনি ড্রাফট তৈরি করে দেবে। এটি আপনি স্ট্যাম্প পেপারে প্রিন্ট করে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটারি করে নিতে পারবেন।
শেষ কথা
নামের ভুল ছোট হলেও এর প্রভাব অনেক বড়। তাই সার্টিফিকেটে বা এনআইডিতে কোনো ভুল থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত নাম পরিবর্তনের হলফনামা বা এফিডেভিট করে তা সংশোধন করে নিন। সঠিক আইনি প্রক্রিয়া আপনার ভবিষ্যৎ ঝামেলা কমাবে।
